‘ন্যায় বিচার খুন হয়েছে’

‘ন্যায় বিচার খুন হয়েছে’

9
SHARE

কাশ্মিরে ‘মানবঢাল’ বানানো সেনা কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করাকে ‘ন্যায়বিচারকে হত্যার’ সামিল বলে অভিহিত করেছেন সেই ঘটনার শিকার হওয়া ফারুক আহমেদ দার।

সেনাবাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের বুদগাম জেলায় বিক্ষুদ্ধ মানুষের পাথর ছুঁড়ে মারা বন্ধ করতেই ফারুক আহমেদকেই সেদিন জিপের সামনে বেঁধে রাখা হয়। সম্প্রতি মানবঢাল বানানো সেই সেনা কর্মকর্তা মেজর নিতিন লিটুল গগোইকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্মানে পুরস্কৃত করেন ভারতীয় সেনাপ্রধান।

গতমাসের শুরুর দিকে শ্রীনগরের একটি সড়কে  সেনা জিপে বেঁধে রাখা এই যুবকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তা ভারতজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে।

সেনাসূত্র তখন দাবি করেছিল, ওই যুবক একজন বিক্ষোভকারী। শ্রীনগরে সংঘাতময় উপনির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া ঠেকাতে বর্ম হিসেবে তাকে ব্যবহার করা হয়।

মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাথে কথা বলেন সেনাদের সেই ‘মানবঢাল’ ফারুক আহমেদ দার। মেজর গগোইকে পুরস্কৃত করার কথা প্রতিবেশীদের মাধ্যমে শুনেছেন জানিয়ে বলেন, এইটা ন্যায়বিচার নয়। এর মাধ্যমে নির্যাতন এবং নিপীড়নের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ন্যায় বিচারকে হত্যা করেছে তারা।

“সেনাবাহিনীর কাছে এবং সেই পুরস্কৃত মেজরের কাছে আমার প্রশ্ন: সেনাদের রক্ষায় বা ছুড়ে মারা পাথর থেকে বাঁচাতে নিজের ছেলেকেও কি তারা গাড়ির সামনে বেঁধে রাখবে?”

“আমাকে মানবঢাল বানিয়ে নয়” বরং সেনাবাহিনী হিসেবে নিজস্ব পদ্ধতিতেই তাদের পাথর ছুড়ে মারাদের প্রতিহত করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রশ্ন করেন, “নিজেদের লড়াইয়ে কিভাবে সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করতে পারে?”

শালের সূচিকর্ম শিল্পী হিসেবে কাজ করেন দার। ‘মানবঢাল’ বানানোর সেই ঘটনার পর এতটাই আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন যে এখন কোন কাজই করতে পারছেন না। সেই ঘটনার পর কয়েকদিন জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীনও থাকতে হয় তাকে। মানসিক পীড়ন থেকে মুক্তির জন্য চিকিৎসা নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয় তাকে।

তিনি বলেন, আমি ও আমার মা মাসে ৩ হাজার রুপি আয় করতে পারতাম। এখন তেমন আয় করতে না পারায় ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছি।

এপ্রিলের ১৫ তারিখ দারকে অপহরণ ও তার জীবন বিপন্ন করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সেই সেনা গগোই-য়ের বিরুদ্ধে এফআইর দায়ের করা হয়। সেনাবাহিনীও তার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালায়, যার প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি।

এই পুরস্কারের প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যে ক্ষমতাসীন পিডিপি মুখপাত্র নিজামুদ্দিন ভাট বলেন, সে (মেজর গগোই) যদি সেই কাজের (মানবঢাল বানানো) জন্য পুরস্কৃত হয়, তবে তা যথাযথ হয়নি।

সোমবার ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত ‘জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমে নিরন্তর প্রচেষ্টার’ জন্য মেজর গগোইকে সিওএএস কমেন্ডেশন কার্ড পুরস্কার দেওয়া হয়।

NO COMMENTS