বাস্তবকে হারিয়ে মন ছুঁয়ে যায় যৌনকর্মী ও প্রতিবন্ধী যুবকের এই প্রেম

বাস্তবকে হারিয়ে মন ছুঁয়ে যায় যৌনকর্মী ও প্রতিবন্ধী যুবকের এই প্রেম

10
SHARE

জীবন সবার ক্ষেত্রে সমান হয়৷ স্বপ্নও মধুর হয় না৷ আর যৌনতাকে যাঁদের পেশা হিসেবে বেছে নিতে হয়, তাঁদের স্বপ্ন দেখারও অধিকার থাকে না৷ বাস্তব আঁচড়ে-কামড়ে নিয়েছিল রাজিয়ার সে স্বপ্নগুলো৷ পুরুষ শাসিত সমাজে একটি মেয়ের শরীরে বেড়ে ওঠা যে কত চোখের লালসা জাগায়, খুব অল্প বয়সেই জেনে গিয়েছিলেন তিনি৷ নিয়তির ফেরে তাই ঠাঁই হয়েছিল বেশ্যালয়ে৷

ইচ্ছে নয় প্রথমে পেটের তাগিদেই যৌনকর্মীর পোশাকে বেছে নিয়েছিলেন রাজিয়া৷ কিন্তু একবার যে এই চক্রব্যূহে ফেঁসে যায় তাঁর পক্ষে কি অত সহজে মুক্তি পাওয়া সম্ভব? এদিকে সময় যত যাচ্ছিল অত্যাচারের মাত্রা বেড়েই চলেছিল৷ আত্মহত্যার পথ হয়তো বেছেই নিতেন যদি না ছোট্ট একটি কন্যা সন্তান গর্ভে চলে আসত৷ নিজের কন্যাকে কোনওদিন পেশার কথা জানাননি রাজিয়া৷ তবুও মেয়ে যখন প্রশ্ন করত, মা কেন তুমি রাতেই কাজ করতে যাও? তাঁকে মিথ্যে বলতে যেন বুক ফেটে যেত তাঁর৷

সারাজীবনের এই দুঃখ অসহ্য ঠেকছিল রাজিয়ার কাছে৷ একদিন খালি রাস্তায় এক গাছের নিচে সব উগরে দিয়েছিল আকাশের দিকে তাকিয়ে৷ খেয়াল ছিল না, পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক প্রতিবন্ধী যুবক৷ আব্বাস মিঞা৷ সব শুনছিলেন তিনি৷ কোনও কথা বললেন না৷ নিজের সম্বল বলতে যে ৫০ টাকা ছিল রাজিয়ার হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছিলেন৷ জীবনে প্রথম যেন কারও মনে ছোঁয়া পেয়েছিলেন রাজিয়া৷ তারপর থেকে ঠিক ওই সময় ওইখানেই এসে দাঁড়িয়ে থাকতেন যাতে ফের দেখা পাওয়া যায় মানুষটার৷ দেখা মিলল বেশ কিছুদিন পর৷ শুরু হল দু’জনের কথা৷ জানা গেল, শারীরিক অক্ষমতার জন্য আব্বাসকে ছেড়ে গিয়েছে তাঁর স্ত্রী৷ ভালবাসায় আর বিশ্বাস নেই রাজিয়ারও৷ কিন্তু একসঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকার করলেন তিনি৷ এতেই খুশি ছিলেন আব্বাস৷ কথা দিয়েছিলেন, শারীরিক দিক থেকে অক্ষম হলেও রাজিয়ার মনের কষ্ট লাঘব করবেন তিনি৷ আজ চার বছর কেটে গিয়েছে নতুন জীবন শুরু করেছেন দু’জনে৷ নিজের কথা এখনও রেখে চলেছেন আব্বাস৷ আর তাঁকে সঙ্গে নিয়েই এতদিন পর জীবনের প্রথম স্বপ্নটা দেখেই ফেললেন রাজিয়া৷

ভিডিওঃ হঠাৎ লাইভ নিউজ শোতে কুকুর, অতঃপর…

NO COMMENTS