হঠাৎ ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশের !

হঠাৎ ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশের !

7
SHARE

৭ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর অসাধারণ ব্যাটিং করে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল এবং ওয়ান ডাউনে নামা সাব্বির রহমান। দ্বিতীয় উইকট জুটিতে ১৩৬ রান আসার পর স্যান্টনারকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন তামিম। শেষ হলো ৮০ বলে ৬ বাউন্ডারি এবং ১ বাউন্ডারিতে ৬৫ রানের দারুণ এক ইনিংস। দলের স্কোর ৫ রান যোগ হতে না হতেই সেই ৬৫ রানেই মোসাদ্দেকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে গেলেন সাব্বির রহমান। ৮৩ বলের ইনিংসটিতে ৯টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন তিনি। এরপর জিতেন প্যাটেলর বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়লেন তরুণ তুর্কী মোসাদ্দেক হোসেন (১০)। মুহূর্তে ৩ উইকেট হারিয়ে এলোমেলো বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ!

কিউইদের দেওয়া ২৭১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় বলেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জিতেন প্যাটেলের বলটি তুলে মারতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে থাকা কোরি অ্যান্ডারসনের তালুবন্দী হন সৌম্য সরকার। দলীয় ৭ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দারুণ জুটি গড়েন তামিম ইকবাল এবং সাব্বির রহমান। ধীরে ধীরে উইকেটে থিতু হয়ে আস্তে আস্তে হাত খোলেন। টানা ব্যর্থতায় সমালোচনায় জর্জরিত সাব্বির এদিন ভালোই সঙ্গ দিলেন তামিমকে। দুজনেই তুলে নিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। ৫৪ বলে ৬ বাউন্ডারি এবং ১ ওভার বাউন্ডারিতে ক্যারিয়ারের ৩৬ তম ফিফটি পূর্ণ করেন তামিম। তার পরেই ৬৪ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ক্যারিয়ারের ৫ম ফিফটি করেন সাব্বির।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টাইগারদের রান ৩০.১ ওভারে ৪ উইকেটে ১৬১। জয়ের জন্য আরও চাই ১১০ রান।

এর আগে ডাবলিনের কন্ট্লাফ ক্রিকেট ক্লাব গ্রাউন্ডে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৭০ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। কিউই দূর্গে প্রথম আঘাত হানেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। তার শিকার হয়ে সাকিব আল হাসানের তালুবন্দী হন লুক রঞ্চি (২)। এরপরেই শুরু হয়ে যায় ক্যাচ মিসের মহড়া! একের পর এক সহজ ক্যাচ মাটিতে পড়তে থাকে! নাসির, মোসাদ্দেকের পর ভালো ফিল্ডার হিসেবে পরিচিত সৌম্য সরকারও ক্যাচ ছাড়েন।

অবশেষে নাসিরের বলে নেইল ব্রুমের দেওয়া দারুণ একটা ক্যাচ লুফে নিয়ে ক্যাচ মিসের মহড়ার ইতি টানেন টাইগার ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ৭৬ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৬৩ রান করা নেইল ব্রুম ল্যাথামের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১৩৩ রানের বিশাল জুটি গড়েছিলেন। পরের ওভারে ল্যাথামকেও (৮৪) বোল্ড করে দেন নাসির। টাইগার শিবিরে যেন নতুন উদ্যম ফিরে আসে। কোরি অ্যান্ডারসনকে (২৪) মাহমুদ উল্লাহর ক্যাচে পরিণত করেন সিরিজজুড়ে নিষ্প্রভ থাকা সাকিব আল হাসান। এরপর মঞ্চে আবির্ভাব টাইগার ক্যাপ্টেনের। ম্যাশের বলে টাইমিং মিস করে মাহমুদ উল্লাহর সহজ ক্যাচে পরিণত হন জেমস নিশাম (৬)।

দ্রুত উইকেট পতনে ম্যাচের রাশ টেনে ধরতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। মাশরাফি-সাকিব যেন উইকেট উৎসবে মেতে ওঠেন। ফিরতি ওভারে বোলিংয়ে এসে স্যান্টনারকে ০ রানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরান সাকিব আল হাসান। পরের ওভারে কলিন মুনরোকে ১ রানে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দী করে বিদায় করেন মাশরাফি। উইকেট উৎসবে যোগ দেন রুবেল হোসেনও। ম্যাট হেনরির (৫) স্টাম্প ছত্রখান করে দেন তিনি। এর আগেই অবশ্য হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন অভিজ্ঞ রস টেইলর। তিনি শেষ পর্যন্ত ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন।

NO COMMENTS